মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ০৮:৩৩ অপরাহ্ন

এ বিজয় আমার নয়, এই বিজয় গত ১৫ বছর ধরে অবহেলিত নির্যাতিত আলীকদম উপজেলাবাসীর

ইকরামুল হাসান : সম্পাদক প্রকাশক
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৯ মে, ২০২৪
  • ১৭ Time View

!!

টি আই মাহমুদ 

৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদের ১ম ধাপের নির্বাচনে এবার পরিবর্তন এনেছেন গত ১৫ বছরে আলীকদম উপজেলা পরিষদের সেবা ও সুবিধা বঞ্চিত জনসাধারণ।

গত উপজেলা পরিষদে পর পর ৩বার নির্বাচিত চেয়ারম্যান আবুল কালাম উপজেলাবাসীকে কাঙ্খিত সেবা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় এই পরিবর্তন এসেছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকার নাগরিকদের মতামতের ভিত্তিতে জানা যায়, চেয়ারম্যান আবুল কালাম সাধারণ মানুষকে বোকা বানিয়ে এতোদিন রাম রাজত্ব করে আসছে।
গত ১৫ বছরে সমাজের শিক্ষিত মানুষদের অবমূল্যায়ন করে তার তথাকথিত বাহিনী নিয়ে সারাদেশব্যাপী ভ্রমন ও ড্রোন উড়ানো ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোন অর্জন নেই তার ঝুলিতে।
উপজেলা পরিষদ কতৃক জনসাধারণের এবং উপজেলার কোন এলাকায় কোনপ্রকার উন্নয়ন তার দ্বারা সাধিত হয়নি।

চেয়ারম্যান আবুল কালামের সাবেক এক শুভাকাঙ্ক্ষী জানান, আমরা এতোদিন তাকে পীরের মতো অনুসরণ করেছি, বুঝতে পারিনি সে আমাদের ধোকা দিচ্ছে, সে সবসময় নিজের এবং পরিবারের বিলাসিতা-ই করে গিয়েছেন। তাই আমরা আর্তসামাজিক ও উপজেলার উন্নয়ন কামনা করে এবার পরিবর্তন চাই। আমরা দেরিতে হলেও নিজেদের ভুল বুঝতে পেরেছি।

চেয়ারম্যান আবুল কালামের অন্ধভক্ত এবং ছায়াসঙ্গী অনেক নেতা প্রতিদ্বন্দ্বী জামাল উদ্দিনের বিভিন্ন মিটিংয়ে বক্তব্য রেখেছেন। চায়ের আড্ডায় বসে তারা জামাল উদ্দিনের দ্বারা (ইউপি চেয়ারম্যান থাকা কালীন) সাধারণ জনগনের উপকৃত হওয়ার কথা তুলে ধরেছেন।
তিনি অসংখ্য ভুয়া ভাউচার তৈরি করে সরকারের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। বিভিন্ন প্রকল্পের কাজের বাজেট অনুযায়ী নির্দিষ্ট একটি টাকা নিয়ে নামে বেনামে কাজগুলো বিক্রি করে দেন, কাজগুলো সঠিকভাবে সম্পন হয়েছে কিনা তারও কোন তদারকি হয়নি বলে জানা যায়। এতে নষ্ট হয়েছে সরকারের কোটি কোটি টাকা।

মায়ানমারের আরাকান আর্মি কর্তৃক অপহৃত আলীকদম উপজেলার গরু ব্যবসায়ীদের আটক এবং টাকার বিনিময়ে ছাড়িয়ে আনা একটি নাটকীয় ঘটনা।
চেয়ারম্যান আবুল কালাম নিজেকে জনগণের কাছে হিরো সাজাতে তিনি এ নাটকটি সাজিয়েছেন।প্রশাসনকে কোন প্রকার সুযোগ না দিয়ে তিনি নিজ উদ্যোগে তাদের উদ্ধার করে আনেন।
আর এতে স্পষ্ট হয় চেয়ারম্যান আবুল কালামের সাথে অপহরণকারীদের সাথে সুসম্পর্ক রয়েছে।

এই নির্বাচনের বিভিন্ন জনসভায় চেয়ারম্যান আবুল কালাম তার বক্তব্যে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জামাল উদ্দিনকে কটাক্ষ এবং তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে বক্তব্য রেখেছেন বলে জানান সুশীল সমাজের ব্যক্তিরা, যা সাধারণ জনগনের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

অন্যদিকে আওয়ামিলীগ সমর্থিত প্রার্থী জামাল উদ্দিন অতীতে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ বিরোধিতার কারণে হারলেও এবার সাধারণ জনগন ও দলীয় নেতাকর্মীদের স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন তিনি।

তার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার নামে ভূয়া আইডি খুলে বিভিন্ন অপপ্রচারে লিপ্ত ছিলো।
এব্যাপারে আলীকদম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জামাল উদ্দিন।

শারীরিকভাবে অসুস্থ সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন বলেন, আমি দুই দুইবার আলীকদম সদর ইউপি চেয়ারম্যান ছিলাম, সে সময়ে আমি কখনো দুর্নীতি করিনি, হয়রানির স্বীকার হতে হয়নি কোন মানুষকে। ইউনিয়ন পরিষদের পরিধি সীমিত, তাই আমি আলীকদম উপজেলাবাসীর জীবনমান উন্নয়নে কাজ করতে চাই।
ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ জনগনের ক্ষতি সাধন নয়, ক্ষমতার সু-প্রয়োগ করে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন বাস্তবায়ন করতে চাই, যা আমি আমার নির্বাচনী ইশতেহারে বলেছি।
এ বিজয় আমার নয়, এই বিজয় গত ১৫ বছর ধরে অবহেলিত নির্যাতিত আলীকদম উপজেলাবাসীর।
এবার আমি আলীকদম উপজেলার সকল জনসাধারণকে সাথে নিয়ে তাদের উন্নয়নে কাজ করে যাবো ইনশাআল্লাহ।

আমি আলীকদম উপজেলাবাসী,  আলীকদম উপজেলা আওয়ামীলীগ পরিবারের নেতৃবৃন্দসহ সকল রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Design & Develop BY Coder Boss
themesba-lates1749691102